মার্কেট টিকার    

পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না-বাংলাদেশ ব্যাংক



পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (পিএলএফএল) অবসায়নে আমানতকারীদের আতংকিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। পিপলস লিজিংয়ের আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ বেশি।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নে আমানতকারীরা কোন ধরণের ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না। আমানতকারীরা যাতে কোন ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে জন্য আমরা প্রতিষ্ঠানটির অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির যত আমানত আছে তার চেয়ে অনেক বেশি সম্পদ আছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ থেকে আমানতকারীদের পাওনা আমরা পৌঁছে দিতে চাই।

তিনি বলেন, পিপলস লিজিংয়ের আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ বেশি। তাদের আমানতের পরিমাণ দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বিপরীতে সম্পদ আছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। এ কারণে আমানতকারীদের শঙ্কার কিছু নেই।

আমানতকারীরা কতদিনের মধ্যে অর্থ ফেরত পাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দ্রুত আমরা এ কার্যক্রম সম্পন্ন করব। তবে যেহেতু আমরা আদালতে যাচ্ছি, এটা এখন আদালতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আমানতকারীদের অর্থ যত দ্রুত সম্ভব দেয়ার চেষ্টা করব।

আমানতকারীদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেয়া হবে কি-না, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটাও সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে আমানত রয়েছে দুই হাজার ৮৬ কোটি টাকা।

১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। এছাড়া গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে। পিপলস লিজিংয়ে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ৭৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

তাদের মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।




মুদ্রার হার

নামাজের সময়সূচি