মার্কেট টিকার    

অবশেষে কপারটেককে তালিকাভুক্তি করার সিদ্ধান্ত ডিএসইর



অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সম্প্রতি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া ও আইপিও লটারি সম্পন্ন করা কোম্পানি কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট। আজ সোমবার অনুষ্ঠিত পর্ষদ বৈঠকে তা অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষ তা কার্যকর হবে।

এর আগে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তি নিয়ে নানা জটিলতার পর গত ১১ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ ডিএসই ম্যানেজমেন্টকে বিদ্যমান বিধিবিধান পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল।

জানা গেছে, ডিএসইর লিস্টিং রেগুলেশন ৫(৩) ধারায় কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সময় বাড়ানোর অনুমোদন সাপেক্ষে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। এলক্ষ্যে ডিএসই থেকে শীঘ্রই সময় বাড়ানোর জন্য বিএসইসিতে চিঠি দেওয়া হবে।

ডিএসই'র তালিকাভুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করলে ওই কোম্পানির আইপিও সাবস্ক্রিপশন (আইপিও আবেদন গ্রহণ) শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তবে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষেত্রে সেই সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, আর্থিক প্রতিবেদনে অস্বচ্ছতার কারণে এতদিন কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। অনিয়মের কারণে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) কপারটেকের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের সনদ নবায়ন করেনি।

ডিএসই তালিকাভুক্ত না করলেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে ডিএসইর কাছে থাকা এলিজিবল ইনভেস্টরদের (ইআই) আইপিও সাবস্ক্রিপশনের টাকা কোম্পানিটির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। সেই লাটারির ড্রতে পাওয়া শেয়ার গত ৯ জুন সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের বিও অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। গত ৩১ মার্চ চাঁদাগ্রহণ শুরু হয়, শেষ হয় ৯ এপ্রিল। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৬৭০তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেয়।গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তারা আইপিও কনসেন্ট লেটার (সম্মতি পত্র) পায়।

তথ্যমতে, কোম্পানিটি ২ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

বাজার থেকে পুঁজি উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি ক্রয় স্থাপনে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভবন ও সিভলি ওয়ার্কে খরচ হবে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আইপিও ফান্ড পাওয়ার ১২ মাসের মধ্যে প্রজেক্টের কাজ শেষ করা হবে। আর আইপিও বাবদ খরচ হিসাব করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা হিসাব করে। শেয়ারপ্রতি নীট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ০৬ পয়সা। কোম্পানিটি ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৪২ টাকার পণ্য বিক্রি করে কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছে ৪ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২ পয়সা।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।




মুদ্রার হার

নামাজের সময়সূচি