z

করোনা এড়িয়ে সুস্থ থাকবেন যেভাবে



করোনাভাইরাস যে শিগগিরই বিদায় নিচ্ছে না, একথা কম-বেশি সবাই জেনে গেছেন। যেহেতু প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি, ধারণা ছিল সবকিছু লক ডাউন করে রাখলে বুঝি একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে দ্রুতই। কিন্তু সহজে বিদায় নিচ্ছে না এই ভাইরাস। তাই ফিরতে হবে আবার আগের ব্যস্ত জীবনে। তবে তা করোনাকে পাশাপাশি রেখেই। অদৃশ্য এই শত্রুকে সঙ্গী করেই চলতে হবে। কীভাবে নিরাপদ রাখবেন সেই যাত্রা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম মেনে চলতে পারলে তো ভালো। কিন্তু যা হচ্ছে তা কোনো নিয়ম নয়। ভাইরাস কীসে দূর হয়, তা নিয়ে ধারণা নেই বেশিরভাগ মানুষের। তাই তারা ভুলভাল উপায় বেছে নিচ্ছেন। যা আসলে তেমন কোনো সুফল বয়ে আনছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হয়। ট্রেনিং দিতে হয় লাগাতার। তারপর সবাই যখন বোঝেন এই পথে চললে ভালো হবে, তারা নিজেরাই ঠিকঠাক নিয়ম মানেন, উপর থেকে চাপিয়ে দিতে হয় না।

এই ভাইরাস ঠেকানোর অন্যতম উপায় হলো পরিষ্কার ভালো করে হাত পরিষ্কার করা। এর মানে কিন্তু এই নয় যে প্রতি ঘণ্টায়ই আপনাকে হাত ধুতে হবে। যদি এমন হয় যে, আপনার হাতে জীবাণু লেগে থাকার ভয় আছে তখন দ্রুতই হাত পরিষ্কার করতে হবে। বাইরে বের হতে হলে সঙ্গে ছোট একটি সাবান ও ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল আছে এমন স্যানিটাইজার নিন। কিছু টিস্যু পেপার বা পরিষ্কার রুমাল রাখুন ব্যাগে। বাইরে হাত ধোয়ার সুযোগ থাকলে সাবানপানিতে হাত ধুয়ে নিন। না হলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। সাধারণ সাবান হলেই হবে। অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল সাবানের কোনো দরকার নেই।

সাধারণ মানুষের গ্লাভস পরার দরকার নেই। নিয়ম মেনে না পরলে বরং বিপদের আশঙ্কা বেশি। তার চেয়ে হাত ধুয়ে নেয়া অনেক নিরাপদ।

রাস্তায় বের হলে মাস্ক বাধ্যতামূলক। অফিসেও পরে থাকবেন। কাপড়ের ট্রিপল লেয়ার মাস্ক সবচেয়ে ভালো। তবে গরমে অসুবিধা হলে ডাবল লেয়ারই পরুন। নাকের উপর থেকে চিবুকের নিচ ও কান পর্যন্ত গালের পুরোটাই ঢাকা থাকতে হবে। আপনার ৬ ফুটের মধ্যে কেউ যেন মাস্ক না পরে আসেন, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

মাস্ক পরছেন বলে মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখবেন না, এমন যেন না হয়। ছয় ফুটের বেশি দূরত্ব রাখতে পারলে সবচেয়ে ভালো। নয়তো কম করে ৩ ফুট।

চোখে চশমা থাকলে অন্য কোনো সাবধানতা লাগবে না। না থাকলে রোদচশমা পরে বের হন। কারণ চোখ দিয়েও জীবাণু ঢুকতে পারে।

নিয়মিত ধোয়া যায় এমন স্যান্ডেল বা জুতা পরে বের হবেন। গয়নাগাটি পরে বেরবেন না। কারণ ধাতুর উপর প্রায় পাঁচ দিন থেকে যেতে পারে জীবাণু। ঘড়ি পরার দরকার নেই।

অফিসে নিজস্ব কাপ রেখে দেবেন। সাবানপানিতে ধুয়ে সেই কাপে চা বা কফি খাবেন। ক্যান্টিন থেকে যে পাত্রেই আসুন, চা-কফির তাপে সেখানে জীবাণু থাকবে না।

বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যাবেন। নয়তো খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয় এমন ফল খাবেন। প্যাকেটের বিস্কুট বা বাদাম খেতে পারেন মাঝেমধ্যে। প্যাকেট খুলে পরিষ্কার করে ধোয়া পাত্রে ঢেলে তারপর হাত ধুয়ে খাবেন।

রাস্তার পাশে লোভনীয় খাবার দেখে খেতে মন চাইতেই পারে। কিন্তু এসময় রাস্তার কিছু খাওয়া একদমই ঠিক নয়। সবচেয়ে ভালো হয় শুধুমাত্র বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে।

বাইরে থেকে ফিরে জুতা নিয়েই ঘরে ঢুকে যাবেন না। জুতা খুলে বাইরে রেখে তারপর ঘরে ঢুকবেন। ৫ দিন পর্যন্ত ভাইরাস লেগে থাকতে পারে জুতোয়। একাধিক জুতা থাকলে অদল-বদল করে পরুন। না থাকলে সাবানপানিতে জুতা ধুয়ে তারপর ঘরে ঢোকাতে পারবেন।

বাইরে থেকে ঘরে ফিরে নির্দিষ্ট কাবার্ড বা ঝোলায় ব্যাগ রেখে বাথরুমে গিয়ে জামাকাপড়, চশমা সাবানপানিতে ধুয়ে, তুলোয় স্যানিটাইজার ভিজিয়ে মোবাইল পরিষ্কার করে, ভালো করে সাবান-শ্যাম্পু করে গোসল করবেন।

বাড়িতে গৃহকর্মী বা অন্য কেউ এলে ঘরে ঢোকার আগে হাত এবং পা ভালো করে সাবান পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়া মাস্ক পরতে হবে। গোসল করে জামাকাপড় বদলে নিতে পারলে আরো ভালো।

খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। হালকা খাবারই ভালো এই সময়। ঘরে বানানো সাধারণ খাবার খান। ভাজা-মিষ্টি একটু কম খাওয়া ভালো। ফল খাবেন নিয়মিত। মাছ-মাংস-ডিম খাবেন, যার যেমন সুবিধা। প্রচুর পানি খাওয়ার কোনো দরকার নেই। শরীর যতটুকু চায় ততটুকু খেলেই হবে।

ভেষজ উপাদান খেতে ইচ্ছে হলে খাবেন। না খেলেও ক্ষতি নেই। কারণ আদা, ভিনেগার ইত্যাদি ভাইরাস মারতে পারে না। পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খেলে, অল্প ব্যায়াম করলে ও ভালো করে ঘুমালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিই ঠিক থাকবে।

গায়ে হালকা রোদ লাগানো খুবই দরকার। সকালের দিকে একটু মর্নিং ওয়াকে গেলে ব্যায়ামও হবে, রোদও লাগবে গায়ে। ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়ায় না। তাই ভয় নেই। মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখাও সহজ হবে।




মুদ্রার হার

নামাজের সময়সূচি